তোমার চারপাশে দেখা বিভিন্ন শ্রেণীভূক্ত দশটি প্রাণীর নাম বাছাই করে ছকে শ্রেণীবিন্যাস কর।

তারিখ: ২৯ জুন, ২০২১

বরাবর,

প্রধান শিক্ষক

ক উচ্চ বিদ্যালয়

ঢাকা।

বিষয়: আমাদের দেখা ১০ টি প্রানীর শ্রেণীবিন্যাস বিষয়ক প্রতিবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, গত ২৮ জুন ২০২১ তারিখে প্রকাশিত আপনার আদেশ যাহার স্মারক নং ক.উ.বি-০৬/২০২১ অনুসারে "আমার দেখা ১০টি প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস" শীর্ষক প্রতিবেদনটি নিম্নে পেশ করছি।


আধুনিক শ্রেণিকরণ পদ্ধতিতে সমস্ত জীবজগৎকে ৫টি রাজ্যে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি রাজ্য হলাে অ্যানিম্যালিয়া। পৃথিবীর সকল প্রাণি এই আ্যানিম্যালিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। আ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের ৯ টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এই নয়টি পর্বের প্রথম আটটি পর্বের প্রাণীরা অমেরুদন্ডী এবং শেব পর্বের প্রাণীরা মেরুদন্ডী। আমাদের চারপাশে অসংখ্য প্রাণীর বসবাস এরমধ্যে আমার দেখা ১০ টি প্রাণীর নাম হল: হাইড্রা, জেলিফিশ, ফিতা, কৃমি, গোলকৃমি, তারামাছ, চিংড়ি, কেঁচ, মানুষ, বিড়াল।


উপরোক্ত বাছাইকৃত প্রাণীগুলোকে নিচে ছকের মাধ্যমে শ্রেণীবিন্যাস তাদের বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হল

প্রাণীর নামরাজ্যদলবৈশিষ্ট্য
হাইড্রা, জেলিফিশ, ফিতা, কৃমি, গোলকৃমি, তারামাছ, চিংড়ি, কেঁচোঅ্যানিমেলিয়াঅমেরুদণ্ডী প্রাণী১) এদের মেরুদন্ড নেই
২) দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকেনা
৩) চোখ সরল প্রকৃতির
৪) পতঙ্গ শ্রেণীভুক্ত প্রাণীদের অধিকাংশই অমেরুদন্ডী। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত যথা: মস্তক, বক্ষ, উদর।
মানুষ, বিড়ালঅ্যানিমেলিয়ামেরুদণ্ডী প্রাণী১) এদের মেরুদন্ড আছে
২) পাখনা কিংবা পা থাকে
৩) মানুষ ছাড়া প্রায় সব মেরুদন্ডী প্রাণীর লেজ থাকে
৪) ফুলকা কিংবা ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায়
৫) মেরুদন্ডী প্রাণীদের মধ্যে আছে: স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, উভচর, খেঁচর, মৎস।

তোমার চারপাশে দেখা বিভিন্ন শ্রেণীভূক্ত দশটি প্রাণীর নাম বাছাই করে ছকে শ্রেণীবিন্যাস কর

মানব জীবনে প্রাণীদের গুরুত্ব এবং এদের রক্ষায় আমাদের করণীয়:

প্রাণী ও অণুজীবের গুরুত্ব আমাদের জন্য অপরিসীম। আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন, অণুজীব বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা দ্বারা পরিবেশ দূষণ হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং সেগুলোকে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যে রূপান্তরিত করে। এরা আমাদের পরিবেশের দূষণ কমাতে এবং আমাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য করছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে প্রাণীদের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি প্রাণী অন্য একটি প্রাণীর উপর নির্ভরশীল এবং এভাবে আমরাও বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের ওপরে নির্ভরশীল। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীদের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রাণীদের রক্ষা করতে হলে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারি।

  1. সাধারণ জনগণকে প্রাণের গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝিয়ে তাদেরকে প্রাণী সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে পারি
  2. শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তকে প্রাণীদের সংরক্ষণ সম্পর্কিত বিভিন্ন লেখা এবং কর্মকাণ্ডকে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদেরকে প্রাণীদের অধিকার এবং প্রাণীদের গুরুত্ব সম্পর্কে ছোটবেলা থেকে জানাতে পারি।
  3. আইনের সঠিক ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রাণীদের উপরে অত্যাচার করা, প্রাণীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা, প্রাণীদের কে বিলুপ্ত করনে যে কোনো কর্মকাণ্ড সংঘটিত করা হলে তাকে প্রতিহত করার মাধ্যমে প্রাণীদের সংরক্ষন করা যাবে।
  4. বিভিন্ন দূষণ যেমন: বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, পানি দূষণ এর মত সকল দূষণকে আমাদেরকে কমাতে হবে এবং নির্মূল করার চেষ্টা করতে হবে। এতে করে বিভিন্ন প্রাণী এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারবে।
  5. বনভূমি, নদী-নালা, সমুদ্র, আবাদি জমি ইত্যাদির সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন করতে হবে। এতে করে এতে বসবাসরত বিভিন্ন প্রাণী নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে এবং পৃথিবীর বুকে টিকে থাকতে পারে।

উক্ত পদ্ধতি গুলো অনুসরণের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই প্রাণীদের সংরক্ষণ করার জন্য অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারি। রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মূলত প্রাণীদেরকে পুরোপুরি রূপে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

Below Post Ad