Google সার্চে র‍্যাংক করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন PDF সহ (SEO Factors Bangla)

কন্টেন্টের পর কন্টেন্ট লিখেই যাচ্ছেন, কিন্তু গুগলে সার্চ করলে আপনার লেখা কন্টেন্ট উপরের দিকে আসছে না। কিংবা ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন কিন্তু কিভাবে আপনার লেখাকে গুগলের উপরের দিকে আনবেন তা জানেন না? আপনাদেরকে কিছুটা সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই এই আর্টিকেল। 


গুগলে র‍্যাংক করতে গেলে অনেক গুলো বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। গুগল অ্যালগোরিদম প্রায় ২০০টি কিংবা ২০০টিরও অধিক বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে কোনো একটি কন্টেন্টকে মূল্যায়ন করে। আর এই ফ্যাক্টরগুলোও প্রায় প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল। তাই এগুলোকে ট্র্যাক করে চলা যায় না, প্রতিনিয়ত এক্সপেরিমেন্ট করে নিজেকেই খুঁজে নিতে হয় সঠিক রাস্তা। তবে আজকে আমরা আপনাদেরকে ৭৫টি মোটামুটি কমন এসইও ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করবো। 

তাহলে শুরু করা যাক।

SEO-Factor-Bangla


১. একটি টপ লেভেল ডোমেইন থাকা:

এটি প্রমাণিত যে গুগল সার্চ রেজাল্টে একটি ভালো অবস্থান পাওয়ার জন্য একটি টপ লেভেল ডোমেইন থাকা দরকার। .com, .org, .co, .com.bd, .info, .xyz, .bangla সহ অনেকগুলি টপ লেভেলের ডোমেইন আছে। আপনার প্রিয় সাইটের জন্য তাদের মধ্য থেকে একটি নির্বাচন করে নিন। টপ লেভেল ডোমেইন না থাকলে .blogspot. com বা wordpress ইত্যাদির সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন/সাবডোমেইন নিয়ে গুগলে আলাদা অবস্থান তৈরি করে নেয়া কঠিন, তবে অসম্ভব না। 


২. ডোমেইন নেমে কীওয়ার্ড থাকা:

আপনার ডোমেনে যদি আপনার সাইটের নিশ-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত কোনও কীওয়ার্ড থাকে তবে আপনার জন্য র‌্যাঙ্ক করা সহজতর হতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি বিড়াল নিয়ে একটি ব্লগ সাইট খুলতে চাচ্ছেন, তাহলে আপনার ডোমেইনটি যদি cathouse, catakib, catgriho ইত্যাদি নামে থাকে তাহলে তা আপনার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। 


৩. ডোমেইন নির্বাচনের আগে তার ইতিহাস জেনে নেয়া:

যদি কোনও ডোমেইন পূর্বে গুগল দ্বারা স্প্যাম হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে এবং তারপরে পুরানো মালিকের পরিবর্তন ঘটে এবং এর পরে নতুন কেউ কোনো যদি এর ডোমেইনটির ইতিহাস না জেনে একই ডোমেইন গ্রহণ করে তবে সম্ভবত স্প্যামি ট্যাগ বহন করতে হবে নতুন মালিককেও কোনো দোষ না করেও। অতএব, একটি ডোমেইন নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এটি আগে কেউ রেজিস্টার করেছিলো কি না তা পরীক্ষা করুন।


৪. স্প্যাম করার চেষ্টা করবেন না:

গুগল যদি কোনও ব্যক্তিকে স্প্যামার হিসাবে চিহ্নিত করে তবে গুগল তার সমস্ত সাইটগুলি স্ক্যান করতে পারে এবং কখনও কখনও এটির রেজাল্ট হিসেবে পেনাল্টিও হতে পারে। স্প্যামিং অনেক রকম হতে পারে। একেবারে ছোটখাট স্প্যামিং হতে পারে অন্য ব্লগ সাইটের কমেন্টে নিজের সাইটের লিংক দিয়ে ব্যাকলিংকের আশা করা। এগুলো থেকে বেঁচে থাকতে হবে অবশ্যই।


৫. হোমপেজ:

এক্সপার্টদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বলা যেতে পারে যে আপনার হোমপেজটি এমন পেজ যা সর্বাধিক সংখ্যক ট্র্যাফিক পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে। কিছু এসইও এক্সপার্ট বলেছেন যে গুগল অ্যালগরিদম অন্য পেজগুলির চেয়ে হোমপেজ অধিকতর বিশ্লেষণ করে। ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বলা যেতে পারে যে কোনও ব্যবহারকারী যদি গুগল থেকে কোনও কিছু সার্চ করে আপনার সাইটে আসে এবং আপনার কন্টেন্ট পছন্দ করে তবে সে আপনার হোমপেজ যেতেই পারে। এজন্য হোমপেজটি ভালোভাবে গোছানো থাকলে তা উপকারে আসবে।  


৬. দেশ ভিত্তিক ডোমেইন:

আপনি যদি কোনও নির্দিষ্ট দেশে আপনার সাইটকে র‌্যাঙ্ক করতে চান তবে আপনার দেশের কোনো টপ লেভেল ডোমেইন ব্যবহার করা উচিত হবে। তবে এটি আপনার সাইটের বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ের সুযোগকে কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে পারে/দিবে। কিছু দেশের এক্সটেনশনগুলি .cn, .uk, .ca, .pt, .bd, .in। বাংলাদেশে .bd এর পাশাপাশি .bangla ডোমেইনও চালু রয়েছে। 


৭. আর্টিকেলের হেডিং ট্যাগ:

আপনার কন্টেন্টের/আর্টিকেলের শিরোনাম ট্যাগটিতে আপনি যে কীওয়ার্ডটি র‌্যাঙ্ক করতে চান তা ব্যবহার করতে পারেন। আগে এটি অনেকটা বেস্ট প্র্যাকটিসের মতো ছিলো, যদিও এটি আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ না এখন। 


৮. সাইটের প্রতিটি কন্টেন্টর শব্দ সংখ্যা:

SEO নিয়ে গবেষণা করে এমন অনেকগুলো সাইট আছে যাদের মধ্যে Moz অন্যতম। তাদের হিসাবে এখন গুগল বটের কাছে দৈর্ঘ্য তেমন কোনো বিষয় নয়, কোয়ালিটি ম্যাটার করে। তবে এখনও, আপনি যদি উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক কীওয়ার্ডের সাথে র‌্যাঙ্ক করতে চান তবে আপনার কন্টেন্টকে কমপক্ষে 1200-1500 শব্দের হওয়া উচিত। বাংলা কন্টেন্ট নিয়ে এগুতে চাইলে ছোট কন্টেন্ট নিয়েও সফল হতে পারেন। তবে সব সময় মনে রাখবেন, পাঠককে যেন খুশি করতে পারেন।


৯.  H1 ট্যাগ ব্যবহার:

কন্টেন্টের হেডিং H1 ট্যাগে থাকা উচিত। পুরো ওয়েবপেজে H1 ট্যাগ থাকবে শুধু একটি এবং সেটিই হলো নির্দিষ্ট কন্টেন্টের শিরোনাম। বলা নিরাপদ যে কোনও একটি কীওয়ার্ডে শিরোনামে H1 এবং ভেতরে H2, H3 ব্যবহার করা উচিত। সম্ভবত এটিই সেরা উপায় এসইও ইফেক্টিভ করার।


১০. মেটা ডিসক্রিপশন ট্যাগ:

এই ফ্যাক্টরটি র‌্যাঙ্ক করার ক্ষেত্রে এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার কীওয়ার্ডগুলি মেটা ডিস্ক্রিপশন ট্যাগে ব্যবহার করা উচিত। এটিকে গুগল এখন আলাদাভাবে হয়তো ক্রল করে না, কিন্তু পাঠক যখন সার্চ ইঞ্জিনে আপনার কন্টেন্ট খুঁজে পাবে বা আপনি যখন সামাজিক মাধ্যমে তা শেয়ার করবেন তখন এই অংশটুকুই বাইরে থেকে তারা দেখবে। তাই তাদের আগ্রহ বাড়াতে এটা আপনার হাতে থাকা সেরা অপশন গুলির একটি। 


১১. টেবিল অব কন্টেন্ট/সূচিপত্র ব্যবহার:

আপনার কন্টেন্টে টেবিল অব কন্টেন্ট ব্যবহার করে ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারেন। পাঠক সরাসরি তাঁর প্রয়োজনীয় অংশ খুঁজে নিতে পারবে সহজে। তবে এভাবে হয়তো ব্লগারের সহজে পাওয়া থিম দ্বারা করাটা একটু কঠিন। তবে যারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন, তারা বিষয়টির দিকে নজর রাখতে পারেন। 


১২. কীওয়ার্ড ডেনসিটি:

গুগল সার্চে আপনি কোন কীওয়ার্ড র‌্যাঙ্ক করতে চান? ঘনত্বকে দিকে লক্ষ্য করে সেই কীওয়ার্ডটি খুঁজে পাওয়া গুগলের পক্ষে সহজতর হয়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার স্প্যাম হিসাবে চিহ্নিত হয় অনেক সময়। কীওয়ার্ড ডেনসিটি 1% বা তার চেয়ে কম হওয়া উচিত। খানিক বেশি হলেও খুব একটা সমস্যা নেই বড় আর্টিকেলের জন্য, তবে কখনোই অনেক বেশি করে ব্যবহার করবেন না। আপনার কন্টেন্টর মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

SEO-factors-bangla
কী-টপিকস অব এসইও


১৩. নিম্ন প্রতিযোগিতামূলক তবে উচ্চ চাহিদা আছে এমন কীওয়ার্ড ব্যবহার করা:

আপনি যদি কম প্রতিযোগিতামূলক তবে অনেক বেশি সার্চ হয় এমন কীওয়ার্ড ব্যবহার করেন তবে সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইটের জন্য র‍্যাঙ্ক করা সহজ হয়ে ওঠে। আপনি কিছু ফ্রি বা পেড এসইও টুলের সাহায্য নিতে পারেন। 


১৪. পেজ স্পিড:

গুগল সার্চের রেজাল্ট-এ ভালো র‌্যাঙ্কিয়ের জন্য পেজ স্পিড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পেজর স্পিড কমপক্ষে ৫০-৮৯ (গুগল পেজস্পিড ইনসাইট-এর) এর মধ্যে হওয়া উচিত।

আপনার সাইটের স্পিড পরীক্ষা করতে আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন । একটি ভালো পেজ লোড স্পিড বজায় রাখতে আপনার কিছু নির্দেশাবলীর অনুসরণ করা উচিত।


ক) বড় আকারের ছবি ব্যবহার করবেন না।

খ) জেপিইজি এক্সআর, জেপিইজি 2000 ফর্ম্যাটগুলি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

গ) ফরমেটিং কম করুন। 


১৫. পাইরেসি কন্টেন্ট:

একই সাইটে একই বিষয়ে সামান্য পরিবর্তিত কন্টেন্ট কোনও সাইটের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং, এটি মাথায় রাখা দরকার। 


১৬. ইমেজ এসইও:

অতিরিক্ত আকারের পিএনজি বা জেপিইগের মতো ইমেজ ফর্ম্যাটগুলি কোনও সাইটের পক্ষে ভালো নয়। আপনার JPEG XR, JPEG 2000 ফর্ম্যাট ব্যবহার করা উচিত। এদের ব্যবহার সাইটের জন্য ভালো। আপনার যুক্ত ছবিগুলি ৩০-৫০ কিলোবাইটে রাখার চেষ্টা করুন। ইমেজ কোয়ালিটি একই রেখে সাইজ কমানোর নিয়ম না জেনে থাকলে এখানে ক্লিক করুন। 


১৭. ছবির Alt:

আপনার ইমেজের Alt র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি আপনার কন্টেন্টের/আর্টিকেলের শিরোনামটি ব্যবহার করতে পারেন বা ছবির সাথে সম্পর্কিত কোনো তথ্য দিতে পারেন এখানে। অন্যান্য অতিরিক্ত ইমেজগুলির জন্য আপনার কীওয়ার্ডও ব্যবহার করা উচিত। এটি সার্চ রেজাল্টে আপনার আর্টিকেলের মূল বিষয়টি সহজে খুঁজে পেতে সহায়তা করে।


১৮. ইমেজের ক্যাপশন:

আপনার ইমেজের জন্য কীওয়ার্ড সহ একটি ক্যাপশন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।


১৯. H2, H3 ট্যাগের ব্যবহার:

H2, H3 ফর্ম্যাটে আপনার কিছু কীওয়ার্ড থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয় তবে আপনি চেষ্টা করতে পারেন। এটি আপনার কন্টেন্টকে দেখতে সুন্দর করবে, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ভালো করবে। 


২০. আপডেটেড কন্টেন্ট:

আপনার কন্টেন্টটি কতবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করে আপডেট করা হয়েছে তাও গুগল সার্চ র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকে থাকার একটি কারণ।


২১. ব্যাকলিংক:

বেশি ব্যাকলিংক থাকা আপনার সাইটের পক্ষে ভালো। ভালো কন্টেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করুন যাতে অন্যরা তাদের ইচ্ছায় আপনার কন্টেন্টের লিঙ্কটি তাদের সাইটে যুক্ত করে। ভালো কন্টেন্টে ফোকাস করুন।


২২. আপনাকে ব্যাকলিংক দেয়া পোস্ট:

আপনার কন্টেন্টের/আর্টিকেলের URL টি যাদের পোস্টে হাইপারলিংক করা হয়েছে তাদের সেই পোস্টের মান এবং বিষয়গুলিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি খুব ভালো আর্টিকেল থেকে লিংকপান তবে আপনার আর্টিকেলটিও বুস্ট পাবে।


২৩. ইমেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য অতিরিক্ত ফাইল:

আপনার কন্টেন্টতে কমপক্ষে 1 টি ফিচার ইমেজ থাকা দরকার। আপনি আপনার কন্টেন্টে আরও ইমেজ যুক্ত করতে পারেন। তবে অনেকগুলি ব্যবহার করা আপনার পেজর স্পিড হ্রাস করবে যা আপনার সাইটের পক্ষে ভালো নয়।


২৪. সঠিক ইংরেজি ব্যাকরণ:

আপনার আর্টিকেলের ভুল ব্যাকরণটি আপনার আর্টিকেলটিকে নিম্ন-মানের আর্টিকেল হিসাবে চিহ্নিত করতে পারে। আপনার অবশ্যই সঠিক ব্যাকরণের উপর ফোকাস করা উচিত। অনেকগুলি ব্রাউজার এক্সটেনশন রয়েছে যা আপনাকে ব্যাকরণগত সমস্যাগুলি সমাধান করতে সহায়তা করতে পারে। Grammarly তার মধ্যে একটি।


২৫. শুদ্ধ বানান:

সঠিক ব্যাকরণের পাশাপাশি সঠিক বানানটি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার লেখায় সঠিক ব্যাকরণের পাশাপাশি সঠিক বানান থাকে তবে আপনার আর্টিকেলটি র‌্যাঙ্ক করার ভালো সুযোগ রয়েছে।


২৬. মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিম: 

আপনার সাইটে এমন থিম ব্যবহার বা নির্মাণ করা উচিত যা পিসি এবং মোবাইল ফোনের জন্য ২ টি আলাদা লে আউট রয়েছে। ২ টি ভিন্ন লোগোও ব্যবহার করা উচিত। মোবাইলে ব্যবহারযোগ্য হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি গুগল মোবাইল-বান্ধব কন্টেন্ট ইন্ডেক্স করতে পছন্দ করে। 


২৭. ব্রোকেন লিংক:

আপনার সাইটে যদি অনেকগুলি ব্রোকেন লিংকথাকে তবে তা আপনার এবং আপনার সাইটের পক্ষে কখনই ভালো নয়। আপনার সাইটের ব্রোকেন লিঙ্কগুলি নিয়মিতভাবে দেখুন। পাশাপাশি 404 Not Found পেজও তৈরি করে রাখুন।  


২৮. বিজ্ঞাপনের লিঙ্ক:

স্পন্সর লিঙ্কগুলি ফলো লিংক করা উচিত নয়। গুগল এসব লিংক গুলোকে নো-ফলো লিংক হিসেবে দেখে। তাই আগে থেকেই এসব লিংককে নো-ফলো লিংক হিসেবে সেলেক্ট করে দেয়া ভালো।


২৯. আপনার কম্পেটিটিভ সাইটগুলি থেকে ব্যাকলিংক পাওয়া:

আপনার লিখিত একই বিষয়টিতে গুগল সার্চে ভালো স্থান পাওয়া কোনও সাইট যদি আপনাকে ব্যাকলিংক দেয়, যা আপনার পেজের র‍্যাংক করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে। 


৩০. .edu এবং .gov ডোমেইন থেকে ব্যাকলিংক:

সাধারণত গুগল এই ধরণের সাইট আর্টিকেল সম্পর্কে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু সেই সাইটগুলি থেকে একটি ব্যাকলিংক পাওয়া সত্যিই আপনাকে সহায়তা করতে পারে। আপনি যদি এই ধরণের ডোমেইন থেকে কোনও ব্যাকলিংক পেতে পারেন তবে আপনার কন্টেন্টটি খুব ভালো মানের পোস্ট হিসেবে গ্রহনযোগ্যতা পাবে এবং আপনার পোস্টটি গুগল সার্চে একটি ভালো র‍্যাংক পাবে। তবে এটি পেতে হলে অনেক সময়, পরিশ্রম আর ভাগ্যের প্রয়োজন। 


৩১. লিঙ্কিং পেজ:

আপনার লেখাটি বেশি বেশি লিংককরুন। এমনকি আপনার নিজের সাইটেও। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কিছু খারাপ। আপনার পেজটি সাইটম্যাপে এবং সম্পর্কিত আর্টিকেলগুলিতে লিংক করুন।


৩২. পুরানো ডোমেইন থেকে ব্যাকলিংক:

পুরানো ডোমেইনগুলি থেকে প্রাপ্ত ব্যাকলিংকগুলি নতুনগুলির চেয়ে ভালো কাজ করে। তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে পুরানো ডোমেনের ইতিহাস যথেষ্ট ভালো। অনেক পুরানো ডোমেইন রয়েছে যা এখন ভালো দেখাচ্ছে তবে কয়েক বছর আগে সেই ডোমেইনটি বাজে কন্টেন্টর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। গুগল সেই সাইটকে বর্তমান সময়ে কিভাবে মূল্যায়ন করে তা দেখে নিন। 


৩৩. ইউজার এক্সপেরিয়েন্স:

গুগল একটি ওয়েবসাইটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিক হিসাবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে। বিশেষত ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে কুকিজ সংগ্রহ করে ইন্ডেক্সের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেও।


৩৪. ফিরে আসা ভিসিটর বা রিটার্নিং ভিজিটর সংখ্যা:

যদি কোনও সাইট ভালো হয় এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে ভালো ধারণা তৈরি করতে পারে, তবে সেই ভিসিটরের পরেরবার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং আপনার সাইটটি কতটা ভালো তা আপনার সাইটে রিটার্নিং ভিজিটরদের সংখ্যার উপর নির্ভর করে।


৩৫. গুগল অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করুন:

গুগল অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করা এবং এবং সেখানকার অবস্থা বিবেচনার পরে আপনার সাইটে পরিবর্তন করা সাইটের পক্ষে অতীব প্রয়োজনীয়। আপনি সমস্ত রিয়েলটাইম ডেটা পেতে পারেন যা আপনাকে কী ধরণের পরিবর্তন করতে হবে তা বুঝতে সহায়তা করবে। 


৩৬. গুগল সার্চ কনসোল ব্যবহার:

এই টুলটি গুগল অ্যানালিটিক্সের মতোই, কতক তাঁর থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি সঠিকভাবে সার্চ কনসোলটি ব্যবহার করতে পারেন তবে আপনি সফল হতে পারবেন। আপনার কোন কন্টেন্ট অধিক ক্লিক পাচ্ছে, কোন কীওয়ার্ড ভালো র‍্যাংক করেছে, কোন ইমেজে কতবার ক্লিক করে কেউ আপনার সাইটে এসেছে প্রায় সবই জানা যায় সার্চ কনসোল থেকে।  


৩৭. ইউটিউব থেকে ব্যাকলিংক:

এটি অধিক ট্র্যাফিক পাওয়ার একটি উপায়। তবে খারাপ বা নিম্নমানের ভিডিও থেকে লিংকপাওয়া মোটেই আশার বাণী নয়। আপনার নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করা এবং আপনি যে লিখিত বিষয়বস্তুটি লিখছেন সে অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করাও একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে যদি আপনি সে ব্যাপারেও দক্ষ হন বা দক্ষ হতে চান। নতুবা প্রয়োজন নেই। 


৩৮. পরিকল্পিত ড্রপডাউন মেন্যু ব্যবহার:

যদি আপনার সাইটে সুপরিকল্পিত ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে থাকে তবে ব্যবহারকারীরা সহজেই তারা কী চান তা খুঁজে নিতে পারে। এটি র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্যও একটি ফ্যাক্ট। আপনি ব্লগারে লেবেল এবং ওয়ার্ডপ্রেসে ট্যাগ ব্যবহার করুন। আপনি নিজে পুরো সাইট কোড করতে চাইলে, আপনি কেবল এইচটিএমএল এবং সিএসএস ব্যবহার করে নিজের ড্রপডাউন মেনু তৈরি করতে পারেন।


৩৯. সাইটম্যাপ:

অসাধারণ কন্টেন্ট সহ আপনার একটি ভালো সাইট রয়েছে। তবে আপনার কাছে যদি আপনার সাইটের জন্য সাইটম্যাপ না থাকে তবে আপনার সমস্ত পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে। হাইপারলিংকসহ আপনার সাইটের টপ পোস্টগুলিকে HTML সাইটম্যাপে উল্লেখ করা উচিত। যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই যে কন্টেন্টটি সার্চ করেন তা সহজেই খুঁজে পেতে পারেন। এছাড়া xml সাইটম্যাপ রাখতে হবে robot এর জন্য। 


৪০. Disclaimer পেজ:

আপনার সাইটের একটি Disclaimer পেজ বাধ্যতামূলক। ফ্রিতে ডিসক্লেইমার পেজ তৈরি করে দেয় অনেক অনলাইন সাইট। তবে ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করা ভালো। অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে ফ্রিতে Disclaimer তৈরি করতে পারবেন টুলকিব ডিসক্লেইমার জেনারেটর থেকেও, বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে। 


৪১. Terms and Condition পেজ এবং Privacy Policy পেজ:

গুগল সার্চে ভালো অবস্থান পাওয়ার জন্য এই দুটি পেজও গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনাকে আপনার সাইটের ব্যবহারকারীদের জন্য আপনার Privacy Policy সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। 


৪২. About Us পেজ:

আপনার সাইটের মূল উদ্দেশ্য কি? কি নিয়ে কাজ করেন? কবে শুরু করেছেন? এসব বিষয় ক্লিয়ার করে একটি About Us পেজ যুক্ত করে দিন। 


৪৩. Contact Us পেজ:

কনটাক্ট আস পেজটিও গুরুত্বপূর্ণ। গুগল ক্রলার এটিও দেখে। এছাড়া আপনার পাঠকরা আপনার কোনো ভুল ধরিয়ে দিতে, কিংবা তাঁর মতামত জানাতে Contact Us পেজটি সহজেই ব্যবহার করতে পারে। আপনি জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়েও এই পেজ তৈরি করতে পারেন আবার সরাসরি Google Form ব্যবহার করেও তৈরি করতে পারেন। গুগল ফর্ম ব্যবহার করে কোনো ধরনের কোড ব্যবহার ছাড়া Contact Us পেজ তৈরি করতে এখানে ক্লিক করুন।


৪৪. উপকারী কন্টেন্ট তৈরি:

কেবল মানের কন্টেন্টই নয়, ব্যবহারকারীদের জন্য উপকারী/দরকারী কন্টেন্টও গুরুত্বপূর্ণ। যদি ব্যবহারকারীরা আপনার কন্টেন্টটিকে দরকারী মনে করে তবে সে আপনার সাইটকে আলাদাভাবে মাথায় রাখবে। 


৪৫. পুরাতন পেজ:

একটি পুরানো পেজ যা নিয়মিত আপডেট হয় তা অনেক সময় অন্যগুলোর চেয়ে ভালো পারফর্ম করতে পারে। আপনার বিষয়বস্তু যদি খুব পুরানো হয় তবে আপডেট করুন বা এটিকে সরিয়ে দিন। যদি আপনি এটি অপসারণ করেন তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার ওয়েবসাইটে একটি 404 Not Found পেজ আছে। 


৪৬. সোর্স:

অনন্য তথ্য রয়েছে এমন প্রতিটি পোস্টে উৎস/সোর্স যুক্ত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সোর্সগুলো একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট হওয়া উচিত। যদিও এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নয় তবে এটি পাঠকদের বিশ্বাস অর্জন করতে সাহায্য করে। ক্রেডিট দিতে শিখুন, ছবি অন্য কোথাও থেকে ব্যবহার করলে তাঁর ক্রেডিট দিন।


৪৭. URL:

আপনার পোস্টের ইউআরএল গুগল র‍্যাঙ্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট। কীওয়ার্ড রয়েছে এমন একটি ইউআরএল আপনার পেজ র‌্যাঙ্কিংকে ভালো করে তুলতে পারে। তবে URL খুব বেশি দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। ইউআরএল ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা উচিত এবং আন্ডারস্কোর হওয়া উচিত নয়, বাংলাদেশে র‍্যাংক করাতে চাইলে বাংলা ইউআরএল দিতে পারে, তবে তা শেয়ারের সময় হিজিবিজি হয়ে যায়। লিংকের মাঝে স্পেস ব্যবহার করা যায় না, এক্ষেত্রে আপনার হাইফেন ব্যবহার করা উচিত। উদাহারণস্বরূপ আমাদের এই আর্টিকেলের লিংকটি দেখুন। 


ব্লগারেরে ক্ষেত্রে URL এর শেষে .html থাকে। এটি সরানো যায়, তবে সরানো উচিত না। .html থাকা আপনার র‍্যাংকিং এ তেমন কোনো ইফেক্ট ফেলবে না। 


৪৮. Error বা পেনাল্টি পেলে পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ:

আপনি যদি গুগল দ্বারা নিষিদ্ধ বা স্প্যাম হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকেন বা আপনার সাইটে কোনো এরর পাওয়া যায়, তবে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই। একটি সফল পুনর্বিবেচনা অনুরোধ আপনাকে সহায়তা করতে পারে। তবে তাঁর আগে আপনার সাইটের সমস্যাগুলোর সমাধান করে ভালো কিছু কন্টেন্ট আপনার সাইটে রাখা উচিত। 


৪৯. গুগল স্যান্ডবক্স:

নতুন সাইটগুলো গুগল স্যান্ডবক্সের মধ্যে থাকে। আপনাকে গুগলে র‍্যাংক করতে হলে স্যান্ডবক্স থেকে বেড়িয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন। সাধারণত প্রথম ৬ মাস আপনার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই, এই সময়ে আপনি নিয়মিত ভালো ভালো পোস্ট পাবলিশ করতে থাকুন। 


৫০. অরগানিক CTR:

একটি ভালো স্তরের অরগানিক CTR বজায় রাখা কোনও সাইটের পক্ষে অনেক বেশি সহায়ক। যদি আপনার বিষয়বস্তু যথেষ্ট ভালো হয় তবে আপনার এটি নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। 


৫১. প্রচুর বিজ্ঞাপন যুক্ত না করা:

গুগল ছোট পোস্টে খুব বেশি বিজ্ঞাপন দেয়া সাইটগুলিকে পেনাল্টি দিতে পছন্দ করে। নিজের আগে ব্যবহারকারীর সুবিধা সম্পর্কে চিন্তা করুন।আর গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করলে অটোঅ্যাডস ব্যবহার করে বিষয়টা পুরোপুরি গুগলের উপর ছেড়ে দিতে পারেন। 


৫২. ভালো কন্টেন্ট:

ভালো কন্টেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার বিষয়বস্তু এত ভালো না হয়, তবে প্রচুর এসইও করার পরও কোনও ইতিবাচক ফল দেয় না, এমনটা হতেই পারে।


৫৩. অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন:

আমরা ইতিমধ্যে এটি আপনাদের অগোচরেই অনেকটা বলে ফেলেছি। কীওয়ার্ড, শিরোনাম, মেটা ডিসক্রিপশন, ভালো ইমেজ, ইমেজ Alt টেক্সট ব্যবহার সবই অন-পেজ অপ্টিমাইজেশনের অংশ। আপনি বিভিন্ন SEO টুলের ব্যবহার করে অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন স্কোর চেক করতে পারেন।

অন-পেজ এসইও এর নিয়ম
অন-পেজ এসইও এর নিয়ম


৫৪. ডোমেইনের বয়স:

কমপক্ষে ১ বছরের থেকেও পুরোনো কোনো ডোমেইনট নতুনের চেয়ে ভালো পারফর্ম করে। সুতরাং, আপনার বিষয়বস্তু ভালো এবং ঠিকঠাকভাবে এসইও করার পরও যদি ভালো র‍্যাংক না পান নতুন ডোমেইন হওয়ায়, তবে খুব একটা টেনশন না নিয়ে কাজ করে যান নিজের মতো। সময় হলেই র‍্যাংক হবে। 


৫৫. SSL সার্টিফিকেট:

যদি আপনার সাইটের URL টিতে https থাকে তবে তা প্রমাণ করে যে আপনার সাইটটি ব্যবহারকারীদের জন্য সুরক্ষিত। এর জন SSL সার্টিফিকেট প্রয়োজন। 


৫৬. অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন এড়িয়ে চলুন:

করে। ওভার অপটিমাইজেশন সবসময়ই খারাপ হয়। আপনার অন-পেজয অপ্টিমাইজেশন প্রয়োজন তবে ওভার-অপ্টিমাইজেশান নয়।


৫৭. পেজের বিন্যাস:

আপনার পেজর বিন্যাসটি যত বেশি আকর্ষণীয় হবে আপনি আপনার সাইটে তত বেশি রিটার্নিং ভিজিটর পাবেন বলে আশা করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত আকর্ষনীয় করতে গিয়ে স্পিড কমিয়ে ফেলা অনুচিত। 


৫৮. বাউন্স রেট:

সব সময় বাউন্স রেট কম রাখার চেষ্টা করবেন, অর্থাৎ ভিসিটরকে আপনার সাইটে কিছুক্ষণ থাকানোর চেষ্টা করবেন। এমন পোস্ট দেবেন না যেখানে ভিজিটর এসেই প্রায় সাথে সাথে আবার পেজ থেকে বের হয়ে যায়। 


৫৯. পান্ডা পেনাল্টি:

পান্ডা পেনাল্টি অনেকগুলি নিম্নমানের কন্টেন্ট রয়েছে এমন সাইটের জন্য ভয়ংকর হতে পারে। এই সাইটগুলি গুগলে কম দৃশ্যমান। সুতরাং কোয়ান্টিটিতে নয়, কোয়ালিটিতে বিশ্বাস করুন। এছাড়াও গুগল পান্ডার দ্বারা সাইটটিকে অন্য কিছু কারণে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে যেমন অন্যের লেখা চুরি, বাজে কন্টেন্ট, ছোট কন্টেন্ট, খারাপ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, ব্যবহারকারীর করা স্প্যাম ইত্যাদি।


৬০. সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট:

আপনার সাইটের যদি কোন সামাজিক যোগাযোগ সাইটের অ্যাকাউন্ট বা পেজ থাকে (অর্থাৎ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম) তবে আপনার এটি সবসময় আপ টু ডেট রাখা উচিত। আর যদি পেজ না থাকে তবে শুরু করা উচিত। বাংলাদেশ, ভারতের প্রেক্ষিতে একটি ফেসবুক পেজ থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। 


৬১. LinkedIn প্রোফাইল:

সাধারণত একটি লিঙ্কডইন পেজ থাকা আপনাকে একটু হলেও এগিয়ে রাখবে; এটি আপনাকে বিশ্বস্ততা পেতে সহায়তা করবে।


৬২. সাইটের নাম লিখে সার্চ করা:

যদি কেউ কোনো তথ্য খোঁজার সময় তাঁর খোঁজার বিষয়টির সাথে সাথে সাইটের নাম লিখে সার্চ করে এবং সেখান থেকে ক্লিক করে লিংকে প্রবেশ করে তবে তা ওই সাইটের জন্য ভালো। যেমন আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বাংলায় জানতে চান এবং যদি গুগলে সার্চ করেন “ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পাঠগৃহ” লিখে, তবে তা আমাদের এই সাইটের জন্য ভালো। ঠিক তেমনি অন্যান্য ক্ষেত্রেও। আপনি যখন “সাকিব আল হাসান ক্রিকিনফো” লিখে সার্চ করেন তখন তা ক্রিকিনফোর ব্র্যান্ড ভেল্যু আরও বাড়িয়ে দেয়। 


৬৩. ডোমেইন স্কোর:

ডোমেইন স্কোর র‍্যাংক করার জন্য খুব বেশি প্রয়োজনীয় না। তবে একটি ভালো ডোমেইন স্কোর থাকা প্রতিযোগীদের পরাজিত করার মূল চাবিকাঠি হতে পারে। আপনার কন্টেন্টর মানের উপর ফোকাস করুন।


৬৪. ওয়েবসাইটের স্পিড কমায় এমন সবকিছু সরিয়ে ফেলা:

সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ রেজাল্টে ভালো র‌্যাঙ্ক অর্জনের জন্য পেজ লোডের স্পিড খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, যদি আপনি আপনার সাইটকে ধীর করে দেয় এমন কিছু খুঁজে পান তবে সাথে সাথে তা সরিয়ে দিন।


৬৫. নিয়মিত কন্টেন্ট লিখুন:

নিয়মিত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট প্রকাশ করা কোনও সাইট ভিজিটর এবং গুগল, উভয়ের দৃষ্টিকেই আকর্ষণ করতে সহায়তা করে। 

গুগল র‍্যাংক ফ্যাক্টর
প্রয়োজনীয় কিছু গুগল র‍্যাংক ফ্যাক্টর


৬৬. কেবল ব্যাকলিংক দেয় এমন সাইট থেকে ব্যাকলিংক পাওয়া:

ব্যাকলিংকগুলি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধুই ব্যাকলিংক দেয় এমন সাইটগুলি থেকে ব্যাকলিংক পাওয়া সর্বদা ভালো হয় না। কখনও কখনও এটি খারাপ হতে পারে।


৬৭. ব্যাকলিংক বিনিময়:

অতিরিক্ত পরিমাণে লিংক বিনিময় করা কখনই ভালো নয়। অনেক বেশি লিংক বিনিময় থেকে বিরত থাকুন।


৬৮. ক্লিক:

গুগল সার্চ রেজাল্ট থেকে যে বিষয়ে যেই ওয়েবপেজ গুলো বেশি ক্লিক পায়, পরবর্তীতে তারা উপরের দিকে উঠে আসে। গুগল ক্লিক গুলোকে একেকটি ভোট হিসেবে কাউন্ট করে থাকে। 


৬৯. সরাসরি ট্রাফিক:

সরাসরি লিংক থেকে (গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিন কিংবা লিংক শেয়ার থেকে নয়) সাইট ভিজিট যেকোন সাইটের পক্ষে ভালো।


৭০. ক্রলযোগ্য পেজ:

র‌্যাঙ্ক করার জন্য, আপনার পেজটি সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে পুরোপুরি ক্রলযোগ্য কিনা তা নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।


৭১. Favicon যুক্ত করা:

Favicon প্রতিটি সাইটের জন্য আবশ্যক। একটি আকর্ষণীয় Favicon ব্যবহারকারীদের আপনার সাইটে নিয়ে যেতে পারে।


৭২. গুগল হামিংবার্ড:

এটি কোনও পেজের বিষয়টিকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে ক্লিক করুন এবং এটি আপনাকে উইকিপিডিয়ায় নিয়ে যাবে যাতে আপনি এটি সম্পর্কে আরও জানতে পারেন।


৭৩. স্প্যাম স্কোর:

আপনার সাইটের স্প্যাম স্কোর যত কম হবে, তত ভালো আপনার সাইটের স্থান হবে। আপনি MOZ এর মতো ফ্রি অনলাইন টুলের মাধ্যমে আপনার ডোমেইনের স্প্যাম স্কোর জেনে নিতে পারেন।


৭৪. ওয়ার্ডপ্রেস ট্যাগস:

ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি আপনার পোস্ট সম্পর্কিত কীওয়ার্ডগুলোকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ওয়ার্ডপ্রেসের একটি অনন্য সুবিধা। 


৭৫. ক্রোম বুকমার্ক:

আপনি হয়তো জানেন যে গুগল তার ব্যবহারকারীদের থেকে ডেটা সংগ্রহ করে। আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ডেটা সংগ্রহ করে যাতে তারা কোনো সাইটের লোডিং স্পিড, মোবাইল ইউসেবিলিটি ইত্যাদি বিশ্লেষণ করতে পারে। একইভাবে, এটি ক্রোম ব্রাউজারে ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর বুকমার্ক করা সাইট বা পেজগুলির ডেটাও সংগ্রহ করে। যদি কেউ আপনার সাইটের কমপক্ষে একটি আর্টিকেল বা হোমপেজ বুকমার্ক করে থাকে তবে আপনি আশা করতে পারেন যে আপনার পেজ গুগল সার্চে একটি ভালো অবস্থান পাবে।  


এইতো, ২০০+ ফ্যাকটর থেকে খুঁজে নিয়ে প্রয়োজনীয় ৭৫টি সম্পর্কে জানানোর সামান্য প্রয়াস থেকে এই আর্টিকেল এই পর্যন্ত লেখা। কোনো ভুল পেয়ে থাকলে কিংবা কোনো প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন করে ফেলুন কমেন্ট বক্সে। ফেসবুকেও আমরা আছি Pathgriho Network নামে। ই-মেইল সাবস্ক্রাইব করে রাখলে আমাদের কন্টেন্টগুলো পেয়ে যাবেন দ্রুততম সময়ে। 


তাহলে দেড়ি না করে, শুরু করে দিতে পারেন এসইও নিয়ে আপনার নিজস্ব এক্সপেরিমেন্ট আর চেষ্টা চালিয়ে যান সফল হওয়ার আগ অব্দি। এই লেখাটির পিডিএফ পেতে এখানে ক্লিক করুন। 

Tags

Post a comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Below Post Ad